ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যার ভিত্তি গড়ে উঠেছে বিশ্বাস ও আমলের ওপর। এই বিশ্বাসের প্রথম ও প্রধান স্তম্ভ হলো “কালেমা” — যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি মুসলমান হিসেবে চিহ্নিত হন। এটি শুধু মুখে উচ্চারণ নয়; বরং অন্তরের গভীর বিশ্বাস ও জীবনে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি। আজকের পোস্টে আমরা— ছয়টি ইসলামি কালেমা সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো। চলুন শুরু করা যাক!
কালেমা কী? ছয়টি ইসলামি কালেমা, অর্থ ও গুরুত্ব!
কালেমার সংজ্ঞা
“কালেমা” শব্দটি আরবি “كلمة” (Kalima) থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো ‘শব্দ’ বা ‘উক্তি’। ইসলামি পরিভাষায় কালেমা বলতে বোঝায়— ঈমানের মৌলিক ঘোষণা, যা একজন মুসলমানের চিন্তা, বিশ্বাস এবং কর্মজীবনের কেন্দ্রবিন্দু।
ইসলাম ধর্মে ছয়টি কালেমা রয়েছে:
যদিও কুরআন বা হাদিসে নির্দিষ্টভাবে “ছয় কালেমা” উল্লেখ নেই, ইসলামি শিক্ষায় এগুলো বিশ্বাস, তওবা এবং জীবনের বিভিন্ন দিককে বুঝাতে ব্যবহার করা হয়। এগুলো শিক্ষাগত ও দাওয়াতি কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কালেমা তাইয়্যিবা (Kalima Tayyibah)
لا إله إلا الله محمد رسول الله
In Enlish: Laaa Ilaaha Illa-Illaahu Muhammadur-Rasoolu-llaah
উচ্চারণ: লা-ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসূলউল্লাহ্ (সা.)
অর্থ: “আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল।”
- এই কালিমা ইসলামের মূল চাবিকাঠি। এটি ঈমান আনার ঘোষণা।
#আরও পড়ুন: শাওয়াল মাসের ছয় রোজা ও কাজা রোজা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন!
কালেমা শাহাদাত (Kalima Shahadat)
أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمد عبده ورسوله.
In Enlish: Ash-hadu al-la ilaha illa-llahu wahdahu la sharika lahu wa-ash-hadu anna Muhammadan ‘Abduhu wa Rasuluhu.
উচ্চারণ: আশ্হাদু আল্লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু আহ্দাহু লা-শারীকালাহু অ-আশ্হাদু আন্না মুহাম্মাদান আ’বদুহু অ-রাসুলুহু
অর্থ: আমি সাক্ষ্য প্রধান করিতেছি যে আল্লাহ ব্যতীত কেহ উপাস্য নাই, তিনি একা, তাঁহার কোনো অংশীদার নাই। আমি আরও সাক্ষ্য় দিতেছি যে, হযরত মুহাম্মাদ (সা.) তাঁহার বান্দা এবং প্রেরিত রাসূল।
- এ কালিমা সাক্ষ্য দেয় ঈমানের প্রতি আন্তরিক স্বীকৃতি।
কালেমা তামজীদ (Kalima Tamjeed)
سبحان الله والحمد لله ولا إلا الله والله أكبر. ولا حولا ولاء قواتى إلا بالله-أنا عليفيل عظيم
In Enligh: Subhaana-llaahi Walhamdu Lillaahi Walaaa Illa-Llaahu Wallaahu Akbar. Walla Hawla Walaa Quwwata Illaa Billaahi-I ‘Alivvil ‘Azeem
উচ্চারণ: সুবহানা-ল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহি ওয়ালা ইল্লা-ল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। ওয়াল্লা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি-ই আলিবভিল আজিম
অর্থ: আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা ও প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ। আর আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই।
- এটি আল্লাহর মহিমা ও গুণাবলির ঘোষণা।
কালেমা তাওহীদ (Kalima Tawheed)
لا إله إلا الله وحداهو لا شاري كالاهو لاهول مولكو ولاهول حمدو يوهي وا يوميتو وا هوا هاي يول لا ياموتو آبادان آبادا زول جلالي والإكرام بيديهل خير، وا هوا على كولي شاي إن قدير
In Enligh: Laa ilaha illallahu Wahdahoo Laa Shari-kalahoo Lahul-Mulku Walahul Hamdu Yuhee Wa Yumeetoo wa hoa Haiy Yul La Yamooto Abadan Abada Zul Jalali Wal ikraam Beyadihil Khair, Wa hua ala kulli Shai-in Qadeer
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারি-কালাহু লাহুল-মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ইউহি ওয়া ইউমিতু ওয়া হোআ হাই ইয়ুল লা ইয়ামুতো আবাদান আবাদা যুল জালালি ওয়াল ইকরাম বেয়াদিহিল খায়ের, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাই-ইন কাদির।
অর্থ: আল্লাহ ব্য়তীত প্রকৃত মাবুদ কেহ নাই, তিনি অদ্বিতীয়, তাঁহার কোনো অংশীদার নাই, তাঁহারই রাজত্ব ও তাঁহারই প্রশংসা । তিনিই জীবিত করেন এবং তিনিই মারিয়া ফেলেন । তিনিই অনন্ত, চির অমর, তাঁহারই আয়ত্বাধীনে কল্য়ান, তিনিই প্রত্য়েক বিষয়ে সক্ষম।
- আল্লাহর একত্ব, সার্বভৌমত্ব এবং শক্তিমত্তা ব্যাখ্যা করে।
#আরও পড়ুন: ইয়াসির ইবনে আমির (রা.) : ইসলামের প্রথম শহিদের জীবন ও ত্যাগের অমর কাহিনি!
কালেমা ইস্তেগফার (Kalima Istighfar)
استغفر الله ربي من كولاي زامبين ازنابتوهو امادان او خات ان سيران او الانياتان واتوبو اليهي من از زامبيل لازي ألامو ومن از زامبيل لازي لا ألامو إناكا أنت ألامول غويوبي وا ستارول أويوبي وغفار أوز زنوبي ولا ها ولا قوة إلا بيلا هيل أ ليل عظيم.
In Enligh: Astaghfirullah rabbi min kullay zambin aznabtuho amadan ao khat an sirran ao alaniatan wa atubu ilaihee min az zambil lazee aalamo wa min az zambil lazee la aalamo innaka anta allamul ghuyoobi wa sattaarul oyobi wa ghaffar uz zunoobi wala ha ola wala quwwata illa bila hil aliyil azeem.
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ রাব্বি মিন কুল্লে জাম্বিন আজনাবতুহো আমাদান আও খাত আন সিররান আও আলানিয়াতান ওয়া আতুবু ইলাইহি মিন আয জাম্বিল লাযী আলামো ওয়া মিন আয জাম্বিল লাজী লা আলামো ইন্নাকা আন্তা আল্লামুল ঘুইউবি ওউলাউয়ুলার ওয়া সাওলার উউযুলাউয়ালা ওয়াউজালা কুউওয়াতা ইল্লা বিলা হিল আলিয়িল আজিম।
অর্থ: আমি জ্ঞাতসারে বা অজান্তে, গোপনে বা প্রকাশ্যে করেছি এমন প্রতিটি গুনাহ থেকে আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, আমার রব, এবং আমি তাঁর দিকে ফিরে যাই সেই পাপ থেকে যা আমি জানি এবং যে পাপ আমি জানি না। নিঃসন্দেহে আপনিই গোপন বিষয়ের জ্ঞাত এবং ভুলত্রুটি গোপনকারী এবং গুনাহসমূহ ক্ষমাকারী। আর (কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই) একমাত্র মহান আল্লাহর কাছ থেকে।
- আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্বপূর্ণ কালিমা।
কালেমা রদ্দে কুফর (Kalima Radde Kufr)
الله هما إني آوزوبيكا من أن أشرك بيكا شاي عون وأنا علمو بيهي واستغفروكا ليما لا علمو بيهي توبتو أنه وتبراتو منال كفري وشيركي والكزبي والجهيباتي وبداياتي ونميماتي والفواهشي والبهتاني والماسي كليها واسلامتو وامانتو واقولو لا إله إلا الله محمد رسول الله.
In Enligh: Allah Humma inni Aaoozubika min-An Oshrika Beka Shai Aown Wa Anaa Aalamo Behi Wa Astaghfiroka Lima laa Aalamo Behi Tubtu Anho Wa Tabarrato Minal Kufri Washshirki Wal Kizbi Wal Jheebati Wal Bidaati Wan Nameemati Wal Fawahishi Wal Bohtani Wal Maasi Kulliha Wa Aslamtoo Wa Aamantoo Wa Aqoolo Laa ilaaha illal Lahoo Mohammadur Rasool Ullah.
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আওযুবিকা মিন আন ওশরিকা বেকা শাই আওন ওয়া আনা আলামো বিহী ওয়া আস্তাগফিরোকা লিমা লা আলামো বিহী তুবতু আনহো ওয়া তাবাররাতো মিনাল কুফরি ওয়াশশিরকি ওয়াল কিজবি ওয়াল জিবাতি ওয়াল বিদাতি ওয়ান নামীমাতি ওয়াল ফাওয়াহিশি ওয়াল বোহতাউ আস্লাও আস্কাউলা ওয়ান আস্কাউলি ওয়ান আছ্বি ওয়াল বিদাতি ওয়ান নামীমাতি ওয়াল ফাওয়াহিশি ওয়াল বোহতাউ আস্কাউলি ওয়ান আস্আলআম। ইলাহা ইল্লাল লাহু মোহাম্মদুর রসূল উল্লাহ।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার সাথে কোন কিছুর শরীক (অংশীদার) করা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি আপনার কাছে জানা ও অজানা সমস্ত শিরকী গুনাহ থেকে ক্ষমা চাচ্ছি এবং তা থেকে তওবা করছি। আমি কুফরী, শিরেকী ও সকল প্রকার গুণাহকে পরিত্যাগ করছি। আমি ইসলাম গ্রহন করছি। ঈমান গ্রহণ করছি এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ পাক ছাড়া কোন ইলাহ (মা’বূদ) নেই, আর সাইয়্যিদুনা মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ পাক – এর রাসূল।
- কুফরি ও শিরক থেকে মুক্তির ঘোষণা।
#আরও পড়ুন: হজ : ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের তাৎপর্য, নিয়ম ও উপকারিতা
কালেমার গুরুত্ব
- একজন মুসলমানের ঈমানের ভিত্তি এ কালেমা।
- নামাজ, তাওবা, জানাজার সময় ও অন্যান্য ইবাদতে কালেমার উচ্চারণ অপরিহার্য।
- শিশুদের প্রথম ইসলামি শিক্ষার অংশ।
- মৃত্যুকালে এ কালেমা পড়া জান্নাতের দরজা খুলে দেয় (হাদিস অনুসারে)।
শেষ কথা
কালেমা শুধু মুখের কথা নয়— এটা একজন মুসলমানের চিন্তা, বিশ্বাস ও কাজের প্রতিফলন। আমাদের উচিত, শুধু কালেমা মুখে উচ্চারণ নয়, বরং অন্তর দিয়ে বিশ্বাস করা এবং জীবনে এর অনুসরণ করা। কালেমার মাধ্যমে একজন মানুষ ইসলাম ধর্মের ছায়াতলে আসে, এবং সেই পথেই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত লাভের পথ তৈরি হয়।



