শাওয়াল মাস এলেই অনেক নারীর মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খায়— “আমি কি রমজানের কাজা রোজা আর শাওয়াল মাসের ছয় রোজা একসাথে রাখতে পারব?” শুধু নারীরাই নয়, অনেক পুরুষও অসুস্থতার কারণে রমজানে রোজা পূর্ণ রাখতে না পারলে একই ধরনের দ্বিধায় পড়েন। আসুন, বিষয়টি শরিয়তের আলোকে পরিষ্কার করে নিই।
শাওয়াল মাসের ছয় রোজা ও কাজা রোজা নিয়ে বিস্তারিত
শরিয়তের আলোকে শাওয়াল মাসের ছয় রোজা ও কাজা রোজা
রমজান মাসে নারীরা মাসিক (হায়েজ) বা প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব (নিফাস) এর কারণে রোজা ভাঙেন বা রাখতে পারেন না। এসব অবস্থায় রোজা রাখা নিষেধ, এবং এ কারণে তারা পুরো ৩০টি রোজা রাখতে পারেন না। ফলে পরবর্তীতে এই রোজাগুলোর কাজা দেওয়া ফরজ হয়ে যায়।
অন্যদিকে, শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা হলো- নফল। হাদিসে এসেছে,
“যে ব্যক্তি রমজানের রোজাগুলো পালন করল, এরপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল—সে যেন পুরো বছর রোজা রাখল।” (সহিহ মুসলিম)
#আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনের ভৌগোলিক রহস্য: কেন এই ছোট্ট ভূমি বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু?
তাহলে প্রশ্ন উঠছে, কাজা রোজা (ফরজ) এবং শাওয়াল মাসের ছয় রোজা (নফল) একসাথে একই নিয়তে রাখা যাবে কি?
উত্তর: না। কাজা (ফরজ) এবং শাওয়ালের রোজা (নফল) একসাথে একই নিয়তে রাখা যাবে না।
শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, ফরজ ও নফল রোজা এক নিয়তে রাখা যায় না। তাই কেউ যদি বলেন, “আমি এক নিয়তে রমজানের কাজা রোজা এবং শাওয়াল মাসের ছয় রোজা পালন করব” — তা গ্রহণযোগ্য নয়। আলাদা নিয়তে ও আলাদা উদ্দেশ্যে রোজাগুলো রাখতে হবে।
তাহলে করণীয় কী?
শরিয়তের মূলনীতি হলো— ফরজ আগে। অতএব, রমজানের যে রোজাগুলো ছুটে গেছে, সেগুলো আগে কাজা করে নেওয়াই উত্তম। এরপর আলাদা করে শাওয়ালের ছয়টি নফল রোজা রাখা যাবে। কারণ রমজানের রোজা পূর্ণ না হলে, তার পূর্ণ ফজিলতও অর্জন করা সম্ভব নয়।
তবে এখানে একটি ব্যতিক্রম রয়েছে।
যদি কেউ অসুস্থতা, ভ্রমণ, কিংবা দীর্ঘ সময় নিফাসগ্রস্ত থাকার কারণে পুরো শাওয়াল মাসেই রোজা রাখতে না পারেন, তাহলে তিনি জিলকদ মাসে কাজা রোজা দিয়ে এবং শাওয়ালের ছয় রোজাও কাজা করে রাখতে পারবেন। কারণ তিনি ওজরের অধিকারী।
আরেকটি বিকল্প পদ্ধতিও শরিয়ত অনুমোদন করেছে—
যাদের পক্ষে সম্ভব না, তারা শাওয়ালের ছয় রোজা আগে রেখে, পরে কাজা রোজাগুলো পালন করতে পারবেন। কারণ, কাজা রোজা অবশ্যই পরবর্তী রমজানের আগেই আদায় করতে হয়, শাওয়াল মাসে নয়। সুতরাং সময়ের হিসেব কষে কেউ চাইলে এইভাবে রোজা রাখতে পারেন।
ফজিলতের কথা ভুললে চলবে না!
ইমাম নববী (রহ.) বলেন—
রমজানের ৩০টি রোজা ও শাওয়ালের ছয় রোজা মিলিয়ে মোট ৩৬টি রোজা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা বলেন:
“যে একটি সৎকর্ম করে, সে পাবে তার দশ গুণ সওয়াব।” (সূরা আল-আন’আম: ১৬০)
তাহলে ৩৬টি রোজা × ১০ = ৩৬০ দিন!
অর্থাৎ, একজন মুসলিম পুরো বছরের রোজার সওয়াব অর্জন করতে পারেন— ইনশাআল্লাহ!
#আরও পড়ুন: সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত (রা.) : ইসলামের প্রথম নারী শহিদ!
শেষ কথা
- ফরজ আগে, কাজা আগে।
- তারপর শাওয়াল মাসের ছয় নফল রোজা।
- ওজর থাকলে শরিয়ত ছাড় দেয়।
- ইসলামের সৌন্দর্য এখানেই— এটি ভারসাম্যপূর্ণ, সহজ ও মানবিক।
আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন এবং রমজানের পরেও তাঁর রহমত, বরকত ও ফজিলত লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।



