আলহাজ্ব জমির খাঁ জামে মসজিদ বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলার বরুড়া থানার খোশবাস উত্তর ইউনিয়নের খোশবাস গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। ব্রিটিশ আমলে, আনুমানিক ১৮০৫-১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে (বাংলা ১২১২ সালের মধ্যে), আলহাজ্ব জমির খাঁ এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। তাঁর নামানুসারে মসজিদটি পরিচিতি লাভ করে এবং স্থানীয়ভাবে এটি “বড়ো মসজিদ” নামেও সমাদৃত। জমির খাঁ ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার কাজে যাতায়াতের সূত্রে তাঁর পরিচয় হয় খোশবাস চৌধুরী বাড়ির সঙ্গে এবং তিনি সেখানে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে চৌধুরী বাড়ির সামনেই তিনি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। আজকের পোস্টে আমরা, জমির খাঁ জামে মসজিদ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানব। চলুন শুরু করা যাক।
জমির খাঁ জামে মসজিদ : ইবাদত, ইতিহাস ও মানবতার মিলনস্থল
মসজিদটি নির্মিত হয়েছে মুঘল স্থাপত্যশৈলীতে, যার নকশা অনেকটা তাজমহলের মতো। এতে রয়েছে তিনটি গম্বুজ ও চারটি মিনার, যা এর নান্দনিক সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তোলে। মূল ভবনের নির্মাণের পর, সময়ের সাথে সাথে মসজিদে কিছু সম্প্রসারণ করা হয়। ২০০৫-২০০৭ সালের মধ্যে মসজিদের সঙ্গে একটি দুইতলা বিশিষ্ট বারান্দা যুক্ত করা হয়, যা অতিরিক্ত নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মসজিদের ভেতরে বাংলার ঐতিহ্যবাহী টেরাকোটা শিল্পকর্ম ও অপূর্ব লতাপাতা, ফুল এবং ইসলামিক কারুকার্য দৃশ্যমান।

#আরও পড়ুন: ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্ম এবং ফিলিস্তিনিদের গণনির্বাসনের (নাকবা) ইতিহাস!
এখানে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজ, পবিত্র রমজানে খতম তারাবিহ, এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে ঈদের নামাজও এখানে আদায় করা হয়। যেমন, আবহাওয়া খারাপ থাকলে ঈদগাহের পরিবর্তে মসজিদেই ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। ঈদগাহটিও মসজিদ কমিটির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় এবং এটি মসজিদ থেকে পশ্চিমে, খোশবাস কলেজের নিকটে অবস্থিত। এই মসজিদ স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাসনালয়।


মসজিদের উত্তর পাশে রয়েছে একটি বড়ো পুকুর, যা ঘাট বাঁধানো। স্থানীয় মুসল্লিরা এখানে অজু, গোসল এবং দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করেন। পুকুরটিতে মাছ চাষও করা হয়। পুকুরের পাশাপাশি উত্তর পাশে রয়েছে একটি পৃথক অজুখানা।

এর দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে আছে পারিবারিক কবরস্থান, যেখানে- আলহাজ্ব জমির খাঁ এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কবর অবস্থিত। মসজিদের প্রধান প্রবেশপথটি উত্তর দিকে, তবে পূর্ব দিকে একটি ছোটো প্রবেশপথও রয়েছে, যার সঙ্গে একটি সরু পাকা রাস্তা সংযুক্ত।

মসজিদটির দক্ষিণ পাশে অবস্থিত খোশবাস বাজারটি হলো খোশবাস ইউনিয়নের সবচেয়ে বড়ো বাজার এবং এর পাশ দিয়েই চলে গেছে খোশবাস-বরুড়া সড়ক, যা রামমোহন সড়ক নামেও পরিচিত। এটি স্থানীয়দের জন্য সহজ যাতায়াতের পথ তৈরি করেছে। ফলে, এই মসজিদ কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনালয়ই নয়, বরং ঐতিহাসিক এবং সামাজিক গুরুত্বেও একটি মূল্যবান স্থাপনা।
যদিও এটি ব্রিটিশ আমলে নির্মিত, তবুও মসজিদটি এখনো ভালো অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতায় এটি নিয়মিত সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। ভবিষ্যতে মূল কাঠামো অক্ষুণ্ণ রেখে আরও উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
#আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনের ভৌগোলিক রহস্য: কেন এই ছোট্ট ভূমি বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু?
এছাড়াও মসজিদের একটি সমাজসেবামূলক কার্যক্রম রয়েছে, যার মাধ্যমে গরিব ও অসহায় মানুষদের সাহায্য করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, তাদের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হয়। এই কার্যক্রম পরিচালনা করে জমির খাঁ সমাজ উন্নয়ন সংঘ, খোশবাস নামক একটি সংগঠন।
এছাড়া খোশবাসের আরেকটি ইউটিউব চ্যানেল আছে, যেখানে খোশবাস জমির খাঁ মসজিদ ও খোশবাস এলাকার অনেক ভিডিয়ো পাবেন।
লেখা: সাজিদ হাসান
#গেস্ট পোস্ট#
⏩ ডিসক্লেইমার: এটি একটি গেস্ট পোস্ট। ফলে এই কন্টেন্টে বর্ণিত সকল তথ্যসহ পুরো কন্টেন্টের দায়ভার গেস্ট লেখক সাজিদ হাসান এর। এই কন্টেন্টের কোনো বিষয়ে আমাদের সাইট [HadithGhor.com] কোনোপ্রকার দায়ী থাকবে না। গেস্ট পোস্টের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন— ফেসবুকে । ধন্যবাদ।




Informative post. Thanks for sharing.