সুনান আবু দাউদ (তাহকিককৃত): পবিত্রতা অর্জন সম্পর্কিত সহিহ হাদিসসমূহ
পরিচ্ছেদ: ১. পেশাব-পায়খানার জন্য নির্জন স্থানে যাওয়া প্রসঙ্গে
১। মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানার উদ্দেশ্যে দূরে চলে যেতেন। [1]
হাসান সহিহ।
[1] তিরমিযী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পায়খানার বেগ হলে রাস্তা থেকে দূরে চলে যেতেন, হাঃ ২০) ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা ও তার সুন্নাত, অনুঃ পেশাব-পায়খানার জন্য দূরে জঙ্গলে যাওয়া) হাঃ ৩৩১, নাসায়ী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পেশাব-পায়খানার জন্য দূরে যাওয়া হাঃ ১৭) দারিমী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পেশাব-পায়খানার জন্য যাওয়া, হাঃ ৬৬০), সহিহ ইবনু খুজাইমাহ (অধ্যায়ঃ উযু, অনুঃ মানুষের চোখের অন্তরাল হওয়ার উদ্দেশ্যে পেশাব-পায়খানার জন্য দূরে যাওয়া, হাঃ ৫০) বায়হাক্বী ‘সুনানুল কুবরা’ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পেশাব পায়খানার জন্য নির্জনে যাওয়া) হাকিম (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা)। ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহিহ। ইমাম হাকিম বলেন, এটি মুসলিমের শর্তে সহিহ। ইমাম সাহাবীও তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ১. পেশাব-পায়খানার জন্য নির্জন স্থানে যাওয়া প্রসঙ্গে
২। জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানার উদ্দেশে দূরে চলে যেতেন, যেন তাঁকে কেউ দেখতে না পায়। [1]
সহিহ।
[1] ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা ও তার সুন্নাত, অনুঃ পেশাব-পায়খানার জন্য দূরে জঙ্গলে যাওয়া, হাঃ ৩৩৫), বায়হাক্বী ‘সুনানুল কুবরা’ (১/৯৩), হাকিম (১/১৪০), বাগাভী ‘শারহুস সুন্নাহ’ (১/২৮২, হাঃ ১৮৫)।
পরিচ্ছেদঃ ২. পেশাবের জন্য কোন ব্যক্তির জায়গা অনুসন্ধান করা
৩। আবুত্ তাইয়্যাহ্ বর্ণনা করেন, জনৈক শায়খ আমাকে বলেছেন, ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) যখন বসরাতে আগমন করলেন, তখন তার নিকট আবূ মূসা (রাঃ)-এর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করা হয়। ’আবদুল্লাহ (রাঃ) কিছু বিষয় জানতে চেয়ে আবূ মূসার (রাঃ) নিকট চিঠি লিখলেন। উত্তরে আবূ মূসা (রাঃ) তাকে লিখলেন, একদিন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি পেশাব করার ইচ্ছা করলেন। অতঃপর তিনি একটি দেয়ালের গোড়ার নরম মাটিতে গিয়ে পেশাব করলেন। এরপর তিনি বললেন, ’তোমাদের কেউ পেশাব করতে চাইলে যেন নীচু নরম জায়গা অনুসন্ধান করে নেয়।’[1]
দুর্বল : যঈফ আল-জামি’উস সাগীর ৩১৯, মিশকাত ৩৪৫।
[1] আহমাদ ‘মুসনাদ’ (৪/৩৯৬), বায়হাক্বী ‘সুনানুল কুবরা (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা অনুঃ পেশাবের জন্য জায়গা খোঁজ করা, ১/৯৩, ৯৪) আবুত তাইয়্যাহ সূত্রে জনৈক ব্যক্তি থেকে। এ সানাদটি আবুত তাইয়্যাহর শায়খের জাহালাতের কারণে দুর্বল। মিশকাতের তাহক্বীক্বে রয়েছেঃ এর সানাদ দুর্বল। সনদে নাম উল্লেখহীন জনৈক শায়খ আছেন। একদল মুহাদ্দিস এটিকে দুর্বল বলেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ৩. কোন ব্যক্তি পায়খানায় প্রবেশকালে যা বলবে
৪। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পায়খানায় প্রবেশ করতেন, হাম্মাদের বর্ণনা মতে, তখন তিনি বলতেনঃ ’’হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’’ আর ’আবদুল ওয়ারিসের বর্ণনা মতে, তিনি বলতেনঃ ’’আমি আল্লাহর কাছেআশ্রয় চাইছি শাইত্বানদের থেকে ও যাবতীয় অপবিত্রতা থেকে।’’[1]
সহিহ : বুখারী- ১৪২ ও মুসলিম, হায়িয অধ্যায়- ১২২, তিরমিযী- ৫, নাসাঈ- ১৯।
ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, শু’বাহ আব্দুল আযীয থেকে বর্ণনা করেনঃ ’’হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।’’ আরেক বর্ণনায় তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাচ্ছি।
[1] মুসলিম (অধ্যায়ঃ হায়িয, অনুঃ পায়খানার প্রবেশের সময় কি বলা উচিত), তিরমিযী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পায়খানায় প্রবেশের সময় যা বলতে হয়, হাঃ ৬, ইমাম তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহিহ), দারিমী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পায়খানায় প্রবেশকালে যা বলবে, হাঃ ৬৬৯) হাম্মাদ বিন যায়িদ থেকে, নাসায়ী ‘আমলুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ’ (অনুঃ পায়খানায় প্রবেশকালে যা বলতে হয়, হাঃ ৭৪) ‘আব্দুল ওয়ারিস সূত্রে এবং তারা দু’জনেই (হাম্মাদ ও আব্দুল ওয়ারিস) ‘আব্দুল ‘আযীয ইবনু সুহাইব থেকে আনাস সূত্রে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. কোন ব্যক্তি পায়খানায় প্রবেশকালে যা বলবে
৫। ’আবদুল ’আযীয ইবনু সুহাইব (রহঃ) আনাস (রাঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাতে ’হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি’ কথাটি রয়েছে। শু’বাহ আবদুল আজিজ সুত্রে বলেন, তিনি একবার ’আউযুবিল্লাহ’ বলেছেন। আর আবদুল আযীয সুত্রে উহাইব বর্ণনা করেছেন যে, তাতে ’সে যেন আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে’ কথাটি রয়েছে।[1]
শাজ।
[1] বুখারী (অধ্যায়ঃ উযু, অনুঃ পায়খানায় যাওয়ার সময় কী বলতে হয়, হাঃ ১৪২, এবং অধ্যায়ঃ দা‘ওয়াত, অনুঃ পেশাব-পায়খানার সময় দু‘আ, হাঃ ৬৩২২), তিরমিযী (অধ্যায় পবিত্রতা, অনুঃ পায়খানায় প্রবেশের সময় যা বলতে হয়, হাঃ ৫), আহমাদ (৩/২৮২) শু‘বাহ সনদে আব্দুল আযীয থেকে আনাস সূত্রে, মুসলিম (অধ্যায়ঃ হায়িয, অনুঃ পায়খানায় প্রবেশের সময় কী বলা উচিত), নাসায়ী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পায়খানায় প্রবেশকালে যা বলতে হয়, হাঃ ১৯), ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পায়খানায় প্রবেশের সময় যা বলবে, হাঃ ২৯৮), আহমাদ (৩/৯৯) হুশাইম সূত্রে, বুখারী ‘আদুবল মুফরাদ’ (অনুঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দু‘আসমূহ, হাঃ ৬৯২) সাঈদ ইবনু যায়িদ থেকে, আর তারা তিনজনেই (অর্থাৎ ইসমাঈল ইবনু উলায়্যাহ, হুশাইম এবং সাঈদ ইবনু যায়িদ) ‘আব্দুল আযীয ইবনু সুহাইব সূত্রে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. কোন ব্যক্তি পায়খানায় প্রবেশকালে যা বলবে
৬। যায়িদ ইবনু আরক্বাম (রাঃ) সূত্র থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সাধারণতঃ পায়খানার স্থানে শয়তান এসে থাকে। সুতরাং তোমাদের কেউ পায়খানায় প্রবেশকালে যেন বলেঃ ’’আমি আল্লাহর কাছে শাইত্বান ও যাবতীয় অপবিত্রতা হতে আশ্রয় চাইছি।’’[1]
সহিহ; ইবনু মাজাহ- ২৯৬।
[1] ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পায়খানায় প্রবেশের সময় যা বলতে হয়, হাঃ ২৯৬), নাসায়ী ‘আমলুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ’ (অনুঃ পায়খানায় প্রবেশকালে যা বলতে হয়, হাঃ ৭৫, ৭৬) সহিহ ইবনু খুযাইমাহ (অধ্যায়ঃ উযু, অনুঃ পায়খানায় প্রবেশকালে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়া, হাঃ ৬৯), সহিহ ইবনু হিব্বান (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পায়খানায় প্রবেশকালে যা বলবে, হাঃ ১২৭), আহমাদ (৪/৩৬৯, ৩৭৩) তায়ালিসি মুসনাদ বায়হাক্বী ‘সুনানুল কুবরা’ (১/৯৬)। প্রত্যেকেই শু‘বাহ সনদে কাতাদাহ্ থেকে নাযর ইবনু আনাস থেকে যায়দ সূত্রে। এ সানাদটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত মোতাবেক সহিহ।
পরিচ্ছেদঃ ৪. কিবলামুখী হয়ে পেশাব পায়খানা করা মাকরূহ
৭। সালমান (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। বর্ণনাকারী ’আবদুর রহমান বলেন, সালমান (রাঃ)-কে বলা হলো, তোমাদের নবী তোমাদেরকে সবকিছুই শিক্ষা দিয়েছেন, এমন কি পায়খানা করার নিয়মও। সালমান (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কিবলামুখী হয়ে পেশাব-পায়খানা করতে, ডান হাতে শৌচ করতে, শৌচকার্যে আমাদের কারো তিনটি ঢিলার কম ব্যবহার করতে এবং গোবর অথবা হাড্ডি দ্বারা শৌচ করতে নিষেধ করেছেন।[1]
সহিহ : মুসলিম।
[1] মুসলিম (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পবিত্রতা অর্জন করা), তিরমিযী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পাথর বা ঢিলা দ্বারা ইস্তিনজা করা, হাঃ ১৬, ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহিহ), নাসায়ী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ তিনটির কম পাথর দ্বারা পবিত্রতা অর্জনে তুষ্ট হওয়া নিষেধ, হাঃ ৪১) ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পাথর দ্বারা ইস্তিনজা করা এবং গোবর ও ঘোড়া-গাধার মল দ্বারা ইস্তিনজা না করা, হাঃ ৩১৬), আহমাদ (৫/৪৩৭, ৪৩৯) সহিহ ইবনু খুযাইমাহ (অধ্যায়ঃ উযু, অনুঃ পাথর দিয়ে ইস্তিনজা করা, হাঃ ৭৪)। প্রত্যেকেই আ‘মাশ সনদে ইবরাহীম থেকে ‘আবদুর রাহমান ইবনু যায়িদ থেকে সালমান সূত্রে।
হাদীস থেকে শিক্ষাঃ ক্বিবলাহমুখী হয়ে পেশাব-পায়খানা করা জায়িয নয়।
পরিচ্ছেদঃ ৪. কিবলামুখী হয়ে পেশাব পায়খানা করা মাকরূহ
৮। আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদের জন্য পিতৃতুল্য, তোমাদেরকে আমি দ্বীন শিক্ষা দিয়ে থাকি। তোমাদের কেউ পায়খানায় গেলে কিবলামুখী হয়ে বসবে না এবং কিবলার দিকে পিঠ দিয়েও বসবে না, আর ডান হাতে শৌচ করবে না। তিনি তিনটি ঢিলা ব্যবহারের নির্দেশ দিতেন এবং গোবর ও হাড্ডি দ্বারা শৌচ করতে নিষেধ করতেন [1]।
হাসান; এর অংশ বিশেষ মুসলিমে আছে।
[1] মুসলিম (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পবিত্রতা অর্জন করা) সংক্ষেপে সুহাইল সনদে কা‘কা‘ থেকে। নাসায়ী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ গোবর দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা নিষেধ, হাঃ ৪০) ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ সনদে মুহাম্মাদ ইবনু ‘আজলান থেকে, ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পাথর দ্বারা ইস্তিনজা করা এবং গোবর ও ঘোড়া-গাধার মল দ্বারা ইস্তনজা না করা, হাঃ ৩১৩) সুফয়ান ইবনু ‘উআইনাহ সনদে ইবনু ‘আজলান থেকে, আহমাদ (২/২৪৭, ২৫০) ইবনু ‘আজলান সূত্রে দারিমী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পাথর দিয়ে ইস্তিনজা করা, হাঃ ৬৭৪) ইবনু ‘আজলান সূত্রে, সহিহ ইবনু খুযাইমাহ (অধ্যায়ঃ উযু, অনুঃ তিনটির কম পাথর দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা নিষেধ, হাঃ ৮০)। প্রত্যেকেই ইবনু ‘আজলান সূত্রে, এবং উভয়ে (অর্থাৎ সুহাইল ও ইবনু ‘আজলান) কা‘কা‘ সূত্রে।
পরিচ্ছেদঃ ৪. কিবলামুখী হয়ে পেশাব পায়খানা করা মাকরূহ
৯। আবূ আইয়ূব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ’’তোমরা পায়খানায় গিয়ে কিবলামুখী হয়ে পায়খানা-পেশাব করবে না, বরং পূর্ব অথবা পশ্চিমমূখী হয়ে বসবে।’’ আবূ আইয়ূব (রাঃ) বলেন, আমরা সিরিয়ায় গিয়ে দেখতে পেলাম, সেখানকার শৌচাগারগুলো কিবলামুখী করে বানানো। সেজন্য উক্ত স্থানে আমরা একটু বেঁকে বসতাম এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতাম।[1]
সহিহ : বুখারী ও মুসলিম।
[1] বুখারী (অধ্যায়ঃ উযু, অনুঃ পায়খানার সময় ক্বিবলাহমুখী না হওয়া, হাঃ ১৪৪, ইবনু আবূ যি‘ব সূত্রে, এবং অধ্যায়ঃ সালাত, অনুঃ মদীনাহ, সিরিয়া ও পূর্ব দিকের অধিবাসীদের ক্বিবলাহ, হাঃ ৩৯৪, সুফয়ান সূত্রে), মুসলিম (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পবিত্রতা অর্জন করা) সুফয়ান সূত্রে, এবং ইবনু আবূ যি‘ব ও সুফয়ান উভয়েই যুহরী সূত্রে।
পরিচ্ছেদঃ ৪. কিবলামুখী হয়ে পেশাব পায়খানা করা মাকরূহ
১০। মা’ক্বিল ইবনু আবূ মা’ক্বিল আল-আসাদী (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই কিবলার (কা’বা ও বাইতুল মাক্বদিসের) দিকে মুখ করে পেশাব-পায়খানা করতে নিষেধ করেছেন।
ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, আবূ যায়দ সা’লাবা গোত্রের দাস।[1]
মুনকার: যঈফ আল-জামি’উস সাগীর ৬০০১।
[1] আহমাদ (৪/২১০), ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পেশাব-পায়খানার সময় ক্বিবলাহমুখী হওয়া নিষেধ, হাঃ ৩১৯), এবং বলা হয়েছে যে, সনদের আবূ যায়িদ এর অবস্থা অজ্ঞাত (মাজহুলুল হাল)। অতএব হাদীসটি তার কারণে দুর্বল। ইবনু হাজার ‘আত-তাহযীব’ গ্রন্থে তার জীবনীতে বলেছেনঃ বলা হয়, তার নাম ওয়ালিদ। তিনি মা‘ক্বাল ইবনু আবূ মাক্বাল আল আসাদী সূত্রে দু‘ ক্বিবলাহর দিকে মুখ করে পেশাব-পায়খানা নিষেধ হওয়া সম্পর্কিত হাদীস বর্ণনা করেছেন, এবং তার সূত্রে ‘আমর ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু ‘উমরাহ। ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি পরিচিত নন।
পরিচ্ছেদঃ ৪. কিবলামুখী হয়ে পেশাব পায়খানা করা মাকরূহ
১১। মারওয়ান আল-আসফার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দেখলাম, ইবনু ’উমার (রাঃ) তার উটকে কিবলার দিকে বসালেন। অতঃপর ঐ উটের দিকে মুখ করে বসে পেশাব করলেন। আমি বললাম, হে আবু ’আবদুর রহমান! এ থেকে (অর্থাৎ কিবলামুখী হয়ে পেশাব করতে) নিষেধ করা হয়নি কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তবে এ নিষেধ উন্মুক্ত ময়দানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তোমার এবং কিবলার মাঝখানে কোন কিছুর আড়াল থাকলে তা দোষনীয় নয়।[1]
হাসান।
[1] দারাকুতনী (১/৫৮), হাকিম (১/৫৪), বায়হাক্বী (১/৯২) হাসান ইবনু জাকওয়ান সূত্রে মারওয়ান আল-আসফার থেকে। ইমাম দারাকুতনী বলেন, এটি সহিহ, এর প্রত্যেক বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। ইমাম হাকিম বলেন, বুখারীর শর্ত মোতাবেক সহিহ। ইমাম যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। আল হাযিমী এটি আল ই‘তিবার (২৬ পৃষ্ঠায়) বর্ণনা করে বলেন, হাদীসটি হাসান।
পরিচ্ছেদঃ ৫. এ সম্পর্কে অনুমতি প্রসঙ্গে
১২। ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি ঘরের ছাদে উঠে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দু’টি ইটের উপর বসে বাইতুল মাক্বদিসের দিকে মুখ করে পেশাব-পায়খানা করতে দেখেছি।[1]
সহিহ: বুখারী ও মুসলিম।
[1] বুখারী (অধ্যায়ঃ উযু, অনুঃ যে ব্যক্তি দু’ ইটের উপর বসে মলমূত্র ত্যাগ করল, হাঃ ১৪৫) মুসলিম (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পবিত্রতা অর্জন করা) মালিক সূত্রে।
হাদীস থেকে শিক্ষাঃ প্রাচীর ঘেরা স্থানে ক্বিবলাহকে পেছনে রেখে পেশাব-পায়খানা করা জায়িয।
পরিচ্ছেদঃ ৫. এ সম্পর্কে অনুমতি প্রসঙ্গে
১৩। জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হয়ে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর ইন্তিকালের এক বছর পূর্বে কিবলামুখী হয়ে পেশাব-পায়খানা করতে দেখেছি।[1]
হাসান।
[1] তিরমিযী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ এ বিষয়ে অনুমতি সম্পর্কে, হাঃ ৯, ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান গরীব), ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ ঘরের মধ্যে ক্বিবলাহমুখী হয়ে ইস্তিনজা করার অনুমতি, হাঃ ৩২৫) প্রত্যেকেই মুহাম্মাদ ইবনু বাশ্শার সূত্রে, এর সানাদ হাসান।
- এই অধ্যায় থেকে শিক্ষাঃ খোলা স্থানে ক্বিবলার দিকে মুখ করা ও পিছন করা নিষেধ। তবে আড়াল হবে বৈধতা রয়েছে। উত্তম হচ্ছে সর্বাবস্থায় অন্য দিকে মুখ করা বা পিছন করা।
পরিচ্ছেদঃ ৬. পায়খানার সময় কিভাবে সতর খুলবে
১৪। ইবনু ’উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পেশাব-পায়খানার ইচ্ছা করতেন, তিনি যমীনের নিকটবর্তী না হওয়া পর্যন্ত কাপড় উঠাতেন না।[1]
আবূ দাঊদ বলেনঃ আবদুস সালাম আ’মাশ সূত্রে আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি দুর্বল।
সহিহ।
[1] তিরমিযী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পেশাব-পায়খানার সময় পর্দা করা, হাঃ ১৪) ‘আবদুস সালাম ইবনু হারব আল জিলানী সনদে আ‘মাশ থেকে আনাস সূত্রে। যেমন বলেছেন আবূ দাঊদ … বর্ণনাটি দুর্বল। ইমাম তিরমিযী (১/২২) বলেন হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ওয়াক‘ এবং আবূ ইয়াহইয়া অল হিমায়ী আ‘মাশ থেকে, তিনি বলেন, ইবনু উমার বলেছেন … হাদীস। অতঃপর তিনি বলেন, উভয় হাদীসই মুরসাল। বলা হয়, আ‘মাশ হাদীসটি আনাস থেকে শুনেননি, এমন কি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো সাহাবী থেকেও নয়। তবে তিনি আনাস ইবনু মালিককে লক্ষ্য করেছেন। তিনি বলেছেনঃ আমি তাকে সালাত আদায় করতে দেখেছি। অতঃপর তার সূত্রে সালাতের বর্ণনা উল্লেখ করেন। আবূ দাঊদে সনদে নাম উল্লেখহীন জনৈক ব্যক্তি রয়েছে। সুতরাং সানাদটি দুর্বল। তবে এর সানাদ দুর্বল হলেও হাদীসটি সহিহ, যেমনটি শায়খ আলবানী বলেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ৭. পেশাব-পায়খানায় সময় কথা বলা মাকরূহ
১৫। আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ দুই ব্যক্তি একই সঙ্গে পেশাব-পায়খানায় জন্য বের হবে না এবং আপন লজ্জাস্থান উন্মুক্ত করে কথাবার্তা বলবে না। কারণ এরূপ কাজে মহাসম্মানিত আল্লাহ অসন্তুষ্ট হন।[1]
আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইকরিমাহ ইবনু আম্মারই সানাদসহ বর্ণনা করেছেন।
দুর্বল।
[1] ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা ও তার পন্থানসমূহ, অনুঃ একত্রে বসে পায়খানা করা এবং এ সময় পরস্পর কথাবার্তা বলা, হাঃ ৩৪২), আহমাদ (৩/৩৬), বায়হাক্বী ‘সুনানুল কুবরা’ (১/১০০), হাকিম (১/১৭৫), সহিহ ইবনু খুযাইমাহ (১/৩৯, হাঃ ৭১) সহিহ ইবনু হিব্বান (১/২১৯, ১৩৭)। এর সানাদ দুর্বল। এতে ইযতিরাব (উলটপালট) ঘটেছে। ইবনু হিব্বান ‘আস-সিক্বাত’ গ্রন্থে বলেনঃ ইয়াহইয়া ইবনু কাসীর সূত্রে ‘ইকরিমাহ ইবনু ‘আম্মারের বর্ণনায় ইযতিরাব ঘটেছে।
ইমাম যাহাবী ‘আল-মিযান’ গ্রন্থে (৩/৩০৭) বলেনঃ আবূ সাঈদ সূত্রে ইয়ায ইবনু হিলাল অথবা হিলাল ইবনু ইয়ায রয়েছে। তাকে চেনা যায়নি। তার সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু কাসীর ছাড়া কেউ বর্ণনা করেছেন বলে আমি অবহিত নই। আওনুল মা‘বুদে রয়েছেঃ সনদের ইকরিমাহ ইবনু ‘আম্মারকে ইবনু মাঈন ও আযদী নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং ইমাম বুখারী, আহমাদ ও নাসায়ী ইয়াহইয়া ইবনু কাসীর সূত্রে তার বর্ণনার সমালোচনা করেছেন।
হাদীস থেকে শিক্ষাঃ
১। লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা ওয়াজিব।
২। পেশাব-পায়খানার সময় পরস্পর কথাপকথনে আল্লাহর ক্রোধান্বিত হওয়া প্রমাণিত করে যে, এ সময় কথাবার্তা বলা হারাম।
পরিচ্ছেদঃ ৮. পেশাবরত অবস্থায় সালামের জবাব দেয়া
১৬। ইবনু ’উমার (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেশাব করছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রমকারী এক ব্যক্তি তাকে সালাম দিল। তিনি তার জবাব দিলেন না।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইবনু ’উমার ও অন্যান্য সূত্রে বর্ণিত আছেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়াম্মুম করলেন, তারপর লোকটির সালামের জবাব দিলেন।[1]
হাসান; মুসলিম।
[1] মুসলিম (অধ্যায়ঃ হায়িয, অনুঃ তায়াম্মুম), তিরমিযী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ অযুহীন অবস্থায় সালামের জবাব দেয়া অপছন্দনীয়, হাঃ ৯০), নাসায়ী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পেশাবরত ব্যক্তিকে সালাম দেয়া, হাঃ ৩৭) ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা ও তার পন্থাসমূহ, অনুঃ পেশাবকারীকে সালাম দেয়া, হাঃ ৩৫৩) ইবনু খুযাইমাহ (হাঃ ৭৩), প্রত্যেকেই সুফয়ান সূত্রে।
পরিচ্ছেদঃ ৮. পেশাবরত অবস্থায় সালামের জবাব দেয়া
১৭। আল-মুহাজির ইবনু কুনফুয (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে তাঁকে সালাম দিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেশাব করছিলেন। সেজন্য অযূ না করা পর্যন্ত তিনি তার জবাব দিলেন না। অতঃপর (পেশাব শেষে অযূ করে) তিনি তার নিকট ওযর পেশ করে বললেন, পবিত্রতা ছাড়া আল্লাহর নাম স্মরণ করা আমি অপছন্দ করি।[1]
সহিহ।
[1] নাসায়ী (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ উযুর পর সালামের জবাব দেয়া, হাঃ ৩৮) ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পেশাবরত ব্যক্তিকে সালাম দেয়া, হাঃ ৩৫০) আহমাদ (৫/৮০), ইবনু হিব্বান (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ উযুহীন ব্যক্তির যিকর ও কিরাত সম্পর্কে, হাঃ ১৮৯) হাকিম (১/১৬৭), তার থেকে বায়হাক্বী (১/৯০)। ইমাম হাকিম একে সহিহ বলেছেন। ইমাম যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।
–
এ অনুচ্ছেদের হাদীস থেকে শিক্ষাঃ
১। হাদীসটি প্রমাণ করে পেশাব পায়খানার সময় আল্লাহর যিকর করা অপছন্দনীয়।
২। উচিত হলো, কেউ পেশাব-পায়খানার সময় সালাম দিলে উযু বা তায়াম্মুম করার পর তার উত্তর দেয়া।
৩। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুকীম অবস্থায় অসুস্থতা ও ওজর ব্যতিরেকেই তায়াম্মুম করেছেন। আর ইমাম আওযায়ীর অভিমতও এটাই যে, জুনুবী ব্যক্তি যদি এ আশঙ্কা করেন যে, গোসল করতে গেলে সূর্যোদয় হয়ে যাবে তখন তিনি ওয়াক্ত ছুটে যাওয়ার পূর্বেই তায়াম্মুম করে সালাত আদায় করে নিবেন। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহঃ) সহ বহু মণীষী এ অভিমত পোষণ করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ৯. যে ব্যক্তি অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহর যিকির করে
১৮। ’আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বাবস্থায় মহামহিয়ান আল্লাহর জিকির করতেন।[1]
সহিহ: মুসলিম।
[1]. মুসলিম (অধ্যায়ঃ হায়িয, অনুঃ জানাবাত ও অন্যান্য অবস্থায় মহান আল্লাহর যিকর করা) বুখারী (অধ্যায়ঃ হায়িয, অনুঃ ঋতুবতী নারী বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ব্যতীত হাজ্জের অন্য সব আনুষ্ঠানিকতা পালন করবে, এবং অধ্যায়ঃ আযান অনুঃ ২/১৩৫, মু‘আল্লাকভাবে এ কথার দ্বারা যে, আয়িশাহ বলেছেন…) ইমাম মুসলিম একে মুত্তাসিলভাবে বর্ণনা করেছেন যা গত হয়েছে। ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পায়খানায় অবস্থানকালে আল্লাহর যিকর করা এবং আংটি পরিধান করা, হাঃ ৩০২), আহমাদ (৬/৭০, ১৩৫) প্রত্যেকেই ইবনু আবূ যায়িদাহ সূত্রে।
–
হাদীস থেকে শিক্ষাঃ
হাদীসটি প্রমাণ করে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পবিত্র, উযুবিহীন, জুনুবী, বসে, দাঁড়িয়ে, হেলান দিয়ে, হাঁটা ও আরোহী সকল অবস্থায়ই আল্লাহর যিকর করতেন। এখানে যিকর কথাটি ব্যাপক অর্থবোধক (‘আম), যা তাসবীহ, তাহলীল, তাকবীর, তাহমীদ, ইস্তিগফার, দরুদ সকল প্রকার যিকর শামিলকরে। মুসলিমগণের ঐক্যমত এরূপ করা শারী‘আত সম্মত। তবে পেশাব-পায়খানা এবং সহবাসের অবস্থায় বাদে। কেননা এ দু‘ অবস্থায় যিকর করা অপছন্দনীয়।
পরিচ্ছেদঃ ১০. আল্লাহর নাম খচিত আংটি নিয়ে পায়খানায় প্রবেশ করা
১৯। আনাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় যাওয়ার সময় আংটি খুলে রাখতেন।[1]
মুনকার: যইফ আল-জামি’উস সাগীর ৪৩৯০, মিশকাত ৩৪৩।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি মুনকার। হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে ইবনু জুরাইজ হতে, তিনি যিয়াদ ইবনু সা’দ হতে, তিনি যুহরী হতে আনাস সূত্রে মারফূ’ভাবে এভাবেঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি রূপার আংটি বানান, অতঃপর তা ফেলে দেন। হাদীসটি বর্ণনায় হাম্মামের ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে। আর হাম্মাম ছাড়া কেউ এটি বর্ণনা করেননি।
[1] তিরমিযী (অধ্যায়ঃ পোশাক-পরিচ্ছদ, অনুঃ ডান হাতে আংটি পরা, হাঃ ১৭৪৬, ইমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসন গরীব) এবং শামায়িলি মাহমুদিয়্যাহ (হাঃ ৯০), নাসায়ী (অধ্যায়ঃ সাজ-সজ্জা, অনুঃ পায়খানায় প্রবেশের সময় আংটি খুলে রাখা, হাঃ ৫২২৮), ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পায়খানায় অবস্থানকালে আল্লাহর যিকর করা এবং আংটি পরিধান করা, হাঃ ৩০৩), আহমাদ (২/৩১১, ৪৫৪) বায়হাক্বী (১/৯৫)। ইমাম দারাকুতনী ‘আল-ইলাল’ গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি সাঈদ ইবনু ‘আমির ও হুদবাহ ইবনু খালিদ বর্ণনা করেছেন হাম্মাম থেকে, তিনি ইবনু জুরাইজ থেকে, তিনি যুহরী থেকে আনাস সূত্রে মাওকুফ হিসেবে। প্রত্যেকেই হাম্মাম থেকে ইবনু জুরাইজ থেকে, তিনি যুহরী থেকে আনাস সূত্রে। নাসায়ীর শব্দ হচ্ছেঃ (تزع خاتمة) এর অনুসরণ (তাবে) করা হয়নি।
হাদীসটি আরো বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া ইবনু মুতাওয়াক্কিল ইবনু জুরাইজ থেকে, তিনি যুহরী থেকে আনাস সূত্রে সাঈদ ইবনু ‘আমিরের অনুরূপ হাম্মাম সূত্রের অনুকরণে এবং বর্ণনা করেছেন ‘আব্দুল্লাহ ইবনু হারিস মাখযুমী, আবূ আসিম, হিশাম ইবনু সুলাইমান এবং মূসা ইবনু ত্বারিক ইবনু জুরাইজ থেকে, তিনি যিয়াদ ইবনু সা‘দ থেকে, তিনি যুহরী থেকে আনাস সূত্রে, তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে তা দেখতে পেলেন এবং তিনি বললেনঃ ‘‘আমি এটি আর কখনো পরব না।’’ ইবনু জুরাইজ সূত্রে এটিই হচ্ছে মাহফুয ও সহিহ।
আর ইমাম বায়হাক্বী ইয়াহইয়া ইবনু মুতাওয়াক্কিল এর হাদীস সম্পর্কে বলেন, এটি একটি দুর্বল শাহিদ। কেননা এ ইয়াহইয়া ইবনু মুতাওয়াক্কিল সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেন, তিনি হাদীস বর্ণনায় নিকৃষ্ট। ইবনু মাঈন বলেন, তিনি কিছুই না। মুহাদ্দিসগণের সকল দলই তাকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম বায়হাক্বী উল্লেখ করেন যে, ইবনু জুরাইজ সূত্রে মাশহুর বর্ণনা হচ্ছে যিয়াদ ইবনু সা‘দ যুহরী থেকে আনাস সূত্রে বর্ণিতঃ ‘‘নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রূপার আংটি পরলেন অতঃপর সেটি ফেলে দিলেন।’’ এর ভিত্তিতে হাদীসটি শায অথবা মুনকার, যেমনটি আবূ দাঊদ বলেছেন, এবং গরীব, যেমন ইমাম তিরমিযী বলেছেন।
যদি বলা হয়, এর তা‘লীক্বে তো উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাম্মাম এতে একক হয়ে গেছেন। এর জবাব দু’ভাবে দেয়া যায়ঃ প্রথমতঃ হাম্মাম এতে একক হয়ে যাননি। যেমন পূর্বে গত হয়েছেন। দ্বিতীয়তঃ হাম্মাম নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। আর নির্ভরযোগ্য সিক্বাহ বর্ণনাকারীর একক হওয়াটা হাদীস অস্বীকৃত হওয়াকে জরূরী করে না। বরং শেষ পর্যন্ত তা গরীব পর্যায়ের হয় যেমন তিরমিযী বলেছেন কিন্তু মুনকার বা শায হয় না- তাহক্বীক্ব ডঃ ‘আব্দুল ক্বাদীর। কিন্তু শায়খ আলবানী (রহঃ) মিশকাতের তাহক্বীকে বলেনঃ মুনকার হওয়াই সঠিক। সেজন্যই জমহুর মুহাদ্দিসগণ একে দুর্বল বলেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ১১. পেশাব থেকে সতর্ক থাকা প্রসঙ্গে
২০। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বললেন, এ দু’জনকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোন বড় গুনাহের কারণে শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। তিনি (একটি ক্বররের দিকে ইশারা করে) বললেন, এই ব্যক্তি পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না। আর (অপর কবরের দিকে ইশারা) করে বললেন, এই ব্যক্তি চোগলখোরী করে বেড়াত। অতঃপর তিনি খেজুরের একটি তাজা ডাল আনিয়ে সেটি দু’ টুকরা করে একটি এ কবরে এবং অপরটি ঐ কবরে গাড়লেন এবং বললেনঃ আশা করা যায়, ডাল দু’টি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত তাদের শাস্তি কিছুটা হালকা করা হবে। হান্নাদ يَسْتَنْزِهُ শব্দের স্থলে يَسْتَتِرُ শব্দ উল্লেখ করেছেন।[1]
সহিহ : বুখারী ও মুসলিম।
[1] বুখারী (অধ্যায়ঃ উযু, অনুঃ পেশাব থেকে সতর্ক না থাকা কাবীরাহ গুনাহ, হাঃ ২১৮), মুসলিম (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ পেশাব অপবিত্র হওয়ার দলীল)।
–
হাদীস থেকে শিক্ষাঃ
১। কবরের আযাব সত্য। এর উপর ঈমান আনা ওয়াজিব।
২। চোগলখুরী হারাম এবং তা কবরের আযাহ হওয়ার অন্যতম বড় কারণ।
৩। প্রস্রাব অপবিত্র।
পোস্ট ক্রেডিট: hadithbd



![ঈমান, ইসলাম ও তাকদীর সম্পর্কে হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ [সহিহ মুসলিম ১-১০]](https://i0.wp.com/hadithghor.com/wp-content/uploads/2025/05/Sahih-Muslim-1-10.jpg?fit=1024%2C536&ssl=1)