ইসলামে পরিচ্ছন্নতা ও শালীনতা শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, বরং ইবাদতের পূর্বশর্ত এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।. রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন কিভাবে প্রস্রাব-পায়খানার সময়ও শালীনতা ও আদব বজায় রাখতে হয়।
এই লেখায় আমরা সুনান আন-নাসায়ী (তাহকীককৃত) থেকে পবিত্রতা সম্পর্কিত পর্ব-১-এর অংশবিশেষ তুলে ধরছি, যেখানে প্রস্রাব-পায়খানার নানা গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে।
কিবলামুখী হওয়া নিষেধ
২১-২২ নং হাদীস:
রাসূল (সা.) প্রস্রাব ও পায়খানার সময় কিবলামুখী হয়ে কিংবা কিবলাকে পেছনে রেখে বসতে নিষেধ করেছেন। বরং পূর্ব বা পশ্চিম দিকে ফিরে বসার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘরের ভিতরে অনুমতি
২৩ নং হাদীস:
’আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বলেন, তিনি নবী (সা.)-কে ঘরের ভিতরে বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে বসে প্রস্রাব করতে দেখেছেন। এটি ঘরের ভেতর প্রাইভেসি ও দেয়াল দ্বারা ঘেরা থাকার কারণে অনুমোদিত হয়।
ডান হাত ব্যবহার নিষিদ্ধ
২৪-২৫ নং হাদীস:
প্রস্রাবের সময় ডান হাত দিয়ে লিঙ্গ স্পর্শ করতে রাসূল (সা.) নিষেধ করেছেন। এটা পবিত্রতা ও সম্মান বজায় রাখার জন্য।
দাঁড়িয়ে প্রস্রাব
২৬-২৮ নং হাদীস:
রাসূল (সা.) মাঝে মাঝে জনসাধারণের আবর্জনা স্থানে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন। তবে কিছু হাদীসে বসে প্রস্রাব করাকেই বেশি প্রচলিত ও সুন্নাত হিসেবে বলা হয়েছে।
ঘরের ভেতরে বসে প্রস্রাব
২৯ নং হাদীস:
আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, নবী (সা.) সর্বদা বসে প্রস্রাব করতেন, কেউ যদি বলে তিনি দাঁড়িয়ে করেছেন, তাহলে তা সত্য নয়।
আড়াল রেখে প্রস্রাব
৩০ নং হাদীস:
রাসূল (সা.) প্রস্রাব করার সময় একটি চামড়ার ঢালের মতো জিনিস সামনে রেখে আড়াল তৈরি করতেন।
প্রস্রাবের ছিটা থেকে সতর্কতা
৩১ নং হাদীস:
দুই কবরবাসীর শাস্তির কথা উল্লেখ করে রাসূল (সা.) বলেন, একজন প্রস্রাবের ছিটা থেকে সাবধানতা অবলম্বন করত না। এ থেকে আমাদের শিক্ষা – পবিত্রতার যত্নে ছিটা থেকে বাঁচা জরুরি।
পাত্রে প্রস্রাবের নিয়ম
৩২-৩৩ নং হাদীস:
নবী (সা.) রাতে কাঠের পাত্রে অথবা তামার পাত্রে প্রস্রাব করতেন, যা পরে খাটের নিচে রাখা হতো। এটা ঘুমের সময় প্রয়োজন পূরণ ও শালীনতা রক্ষার একটি পন্থা।
গর্তে প্রস্রাব না করা
৩৪ নং হাদীস:
রাসূল (সা.) গর্তে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন, কারণ বলা হয় সেগুলো জিনের বাসস্থান হতে পারে। ইসলামে এমন কোনো স্থান অপবিত্র করা অনুচিত।
আরো পড়ুনঃ ইসলামিক পরিচ্ছন্নতা ও ইস্তিঞ্জার আদব: সুনান আন-নাসায়ী থেকে শিক্ষা
সংক্ষিপ্ত শিক্ষা
কিবলামুখী হয়ে বা কিবলাকে পেছনে রেখে প্রস্রাব-পায়খানা করা অনুচিত।
ডান হাত ব্যবহার না করে বাম হাত দিয়ে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা করা উত্তম।
দাঁড়িয়ে বা বসে – উভয় পন্থায় নবী (সা.) প্রস্রাব করেছেন, তবে অধিকাংশ সময় বসে।
ছিটা থেকে বাঁচা, আড়াল বজায় রাখা এবং ব্যবহৃত স্থান বা পাত্র পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
গর্ত বা খোলা জায়গায় প্রস্রাব করা হলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ইসলামে প্রতিটি কাজেরই রয়েছে শিষ্টাচার ও নিয়ম। এমনকি প্রস্রাব-পায়খানার মতো স্বাভাবিক বিষয়েও রয়েছে রাসূল (সা.)-এর হাদীসভিত্তিক গাইডলাইন।
এই নিয়মগুলো আমাদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, সামাজিক সৌন্দর্য, এবং আখিরাতের সফলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

